গিটহাব কি?
গিট আর গিটহাব কি একই জিনিস?
অনেকে গিট আর গিটহাবকে গুলিয়ে ফেলে। আসলে এই দুইটা আলাদা জিনিস:
- গিট (Git) = একটা সফটওয়্যার, যেটা তোমার কম্পিউটারে চলে
- গিটহাব (GitHub) = একটা ওয়েবসাইট, যেখানে তুমি তোমার গিট প্রোজেক্ট অনলাইনে রাখতে পারো
সহজ উদাহরণ দিয়ে বুঝি
ধরো তুমি ছবি তোলো ফোনের ক্যামেরা দিয়ে। এখানে:
- ক্যামেরা = গিট (ছবি তোলার টুল)
- গুগল ফটোস = গিটহাব (ছবি অনলাইনে রাখার জায়গা)
ক্যামেরা ছাড়া ছবি তুলতে পারবে না। আর গুগল ফটোস ছাড়াও ছবি তুলতে পারবে, কিন্তু অনলাইনে শেয়ার করতে পারবে না। দুইটা মিলে কাজটা কমপ্লিট হয়।
ঠিক তেমনি:
- গিট ছাড়া তুমি লোকালি কোড ট্র্যাক করতে পারবে না
- গিটহাব ছাড়াও তুমি গিট ব্যবহার করতে পারবে, কিন্তু অনলাইনে কোড রাখা, শেয়ার করা, টিমে কাজ করা — এসব পারবে না
গিটহাব দিয়ে কি কি করা যায়?
- কোড অনলাইনে রাখা — তোমার প্রোজেক্ট সেফ থাকবে, কম্পিউটার নষ্ট হলেও কোড হারাবে না
- টিমে কাজ করা — তুমি আর তোমার বন্ধুরা একই প্রোজেক্টে কাজ করতে পারবে
- পোর্টফোলিও বানানো — চাকরি খোঁজার সময় গিটহাব দেখায়, এটা তোমার কাজের প্রমাণ
- ওপেন সোর্সে কন্ট্রিবিউট — বড় বড় প্রোজেক্টে (যেমন React, Linux) তুমিও কন্ট্রিবিউট করতে পারবে
- কোড রিভিউ — অন্যরা তোমার কোড দেখে ফিডব্যাক দিতে পারবে
গিটহাবই কি একমাত্র অপশন?
না! গিটহাবের মতো আরো প্ল্যাটফর্ম আছে:
- GitLab — গিটহাবের মতোই, কিছু বাড়তি ফিচার আছে
- Bitbucket — Atlassian এর প্রোডাক্ট, Jira এর সাথে ভালো কাজ করে
কিন্তু গিটহাব সবচেয়ে জনপ্রিয়। বেশিরভাগ ওপেন সোর্স প্রোজেক্ট গিটহাবেই আছে। তাই আমরা গিটহাবই শিখবো।
গিটহাবে অ্যাকাউন্ট খোলা
গিটহাব ব্যবহার করতে হলে আগে একটা অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এটা ফ্রি:
- github.com এ যাও
- Sign up বাটনে ক্লিক করো
- ইমেইল, পাসওয়ার্ড, ইউজারনেম দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলো
- ইমেইল ভেরিফাই করো — ব্যস!
টিপ: ইউজারনেম ভালো কিছু দাও। এটা তোমার প্রোফাইল URL হবে —
github.com/tomar-username। পরে চেইঞ্জ করা যায়, কিন্তু শুরুতেই ভালো কিছু দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
মনে রাখো
গিট = লোকাল টুল (তোমার কম্পিউটারে চলে)
গিটহাব = অনলাইন প্ল্যাটফর্ম (ক্লাউডে কোড রাখার জায়গা)
এবার চলো গিট ইন্সটল করি তোমার কম্পিউটারে!